আসামী ছিনিয়ে নিতে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপর হামলা, পুলিশের ৭ সদস্য আহত

         আত্বরক্ষায় পুলিশের ৫ রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘেরাও করে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের লোকজন। এসময় তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।এ সময় পরিস্থিতি ব্যাগতিক দেখে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ রাউন্ড শটগানের গুলি বর্ষণ করে। ইট পাটকেলের আঘাতে পুলিশের ৭ সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জামালপুর পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনায় হামলাকারী সন্দেহে সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের আব্দুল মজিদ এর ছেলে বিদ্যুৎ হোসেন(২০) কে আটক করেছে পুলিশ। ইটপাটকেলের আঘাতে আহতদের মধ্যে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ, এসআই সুলতান মাহমুদ, শফিউল আলম সোহাগ, এএসআই মেহেদী মাসুদ, কনস্টেবল খোকনুজ্জামান, সোলায়মান, আব্দুস সালাম এর নাম জানা গেছে। তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ সুত্রে জানা গেছে , সরিষাবাড়ী থানার দুটি মামলার আসামি পোগলদিঘা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের দানেশ আলীর ছেলে মশিউর রহমান (৫১) ওরফে পাইপ মোরশেদ সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এ খবর পেয়ে ফাড়ির পাশেই ইসলামী ব্যাংক মোড় এলাকায় সমবেত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আটককৃত কে ছাড়িয়ে নিতে ব‌্যার্থ চেষ্টা চালায় বিক্ষুব্ধরা। আসামী ছেড়ে না দেওয়ায় বিক্ষুব্ধরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এছাড়াও তারাকান্দি মোড় আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে আসামি ছিনিয়ে নিতে নারী-পুরুষ সমবেত হতে থাকে।

পরে সরিষাবাড়ী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আসামিকে গ্রেফতার করা হলে আসামীর লোকজন পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। ব‌্যার্থ হয়ে তারা তদন্ত কেন্দ্রে পুলিশকে লক্ষ করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে শর্টগানের ৫ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে। জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, যমুনা সার কারখানায় দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকদের নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজকে একটি গ্রুপের সদস্য তিনটি মামলার চাঁদাবাজির আসামী কে ফাঁড়ির ইনচার্জ গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার কৃতকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা করা হয়। তিনি আরও বলেন, আসলে আমরা তিনটা ওয়ারেন্টের বেসিসে গ্রেফতার করেছি।আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।তাকে এরেস্ট করার কারণে পুলিশের ওপর চড়াও হতে চেয়েছিল আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

খবরটি শেয়ার করুন....
© All rights reserved  2022 DesherGarjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
%d bloggers like this: