৫২ বছরে পদার্পণ করল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অমিত বিশ্বাস বাপি, জাবি প্রতিনিধি: গৌরবময় অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে, ৫২ বছরে পদার্পণ করেছে চিরসবুজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই বিদ্যাপীঠের আজকের এই দিনে পৌঁছাতে পার করতে হয়েছে নানা চড়াই-উতরাই। ঢাকার অদূরে সাভারে প্রায় ৭০০ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যার যাত্রা শুরু হয় ১৯৭০ সালে। আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান শুরু ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারিতে। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে মাত্র ৪টি বিভাগে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সবুজে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে ৩৪টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউট এবং প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে তা যেন এক মহীরুহ। ১৯৭০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্যের দায়িত্ব পান রসায়নবিদ অধ্যাপক ড. মফিজ উদ্দিন। বর্তমানে দেশের প্রথম নারী উপার্চায হিসেবে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে এই বিদ্যাপীঠ। সেই সঙ্গে নানা উৎসব পালনে শীর্ষে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশে প্রথম পুতুলনাচের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণার জন্য পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র খোলা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ছাড়া বছরজুড়ে কখনো চলে হিম উৎসব, কখনো চৈত্রসংক্রান্তি আবার কখনো ব্যাঙের বিয়ে। এছাড়া পয়লা বৈশাখসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালিত হয় এখানে।

তাইতো দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী নামেও পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। নৈসর্গিক সৌন্দর্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ঘিরে রয়েছে নানা স্থাপনা। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার, ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য অমর একুশ, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য সংশপ্তক, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নামে নির্মিত মুক্তমঞ্চসহ আরো কিছু স্থাপনা। এ ছাড়া দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দ ওয়াজিদ আলী গবেষণাগারটি অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সৌন্দর্য হলো প্রাকৃতিক জলাধার ও অতিথি পাখি। এখানে ছোট-বড় ১৬টি জলাধার রয়েছে, যেখানে শীতকালে মেলা বসায় অতিথি পাখি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে যুক্ত হয়েছেন দেশের গুণী মানুষেরা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষকতা করেছেন লেখক হায়াৎ মামুদ, লেখক হুমায়ুন আজাদ, ইতিহাসবিদ বজলুর রহমান খান, নাট্যকার সেলিম আল দীন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীসহ আরো অনেকে। সফলতা ও ব্যর্থতার অবস্থান পাশাপাশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সব সফলতার সঙ্গে সঙ্গে ব্যর্থতাও রয়েছে একাধিক। আবসন সংকট ও গবেষণার মান নিয়ে বিতর্ক এর মধ্যে অন্যতম। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও হলগুলোতে রয়েছে সিট সংকট। বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ছেলেদের ৩ টি ও মেয়েদের ৩ টি মোট, নতুন ৬টি হলসহ আরো কিছু স্থাপনার কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হল সমূহের নির্মাণ কাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসন থেকে। এতে করে আবাসিক সংকটের কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খবরটি শেয়ার করুন....
© All rights reserved  2022 DesherGarjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
%d bloggers like this: