মানিকগঞ্জে সরকারি হাসপাতালে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেটে ব্যস্ত ডাক্তার এমদাদুল হক সোনারগাঁয়ে জালিয়াতির মামলায় মোঃ মজিবুর রহমান গ্রেফতার রূপগঞ্জে অবৈধ গ্যাসলাইন বিস্ফোরনে জ্বলসে গেলো ভাড়াটিয়া আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তেল সংকট কেটে যাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ফুলপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের এক হেলপার নিহত, আহত শিশু সহ বেশকিছু যাত্রী সোনারগাঁয়ে আরমান হত্যার সাত বছর পেরিয়েও বিচার না পেয়ে সংবাদ সম্মেলন বড়াইগ্রামের পদ্মবিলের সৌন্দর্য নষ্ট করে চলছে পুকুর খনন আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভূমিকা থাকবে গুরুত্বপূর্ণ: লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি  দেবরকে গলা টিপেই মে’রে ফেললেন ভাবি! ফুলপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা নিহত

সাটুরিয়া হাসপাতালে রোগীদের পায়ের সেন্ডেল ও ব্যাগ রেখে সিরিয়াল

সাটুরিয়া প্রতিনিধি: সাটুরিয়ার হাসপাতালে এ দৃশ্য দেখে মনে হয় রিলিফের জন্য বসে আছেন পথচারীরা। কার আগে কে লাইনে দাড়াবে এ নিয়ে চলে নারীদের প্রতিযোগিতা। আসলে রিলিফ নয়। এরা সবাই সাটুরিয়া হাসপাতালের রোগী। টিকিট কাউন্টার যথা সময়ে না খোলার কারণে রোগীরা ভোর থেকে এসে পায়ের সেন্ডেল ও ব্যাগ রেখে লাইনের সিরিয়াল রাখে।

সোমবার (২৮ মার্চ) সকালে সাটুরিয়া হাসপাতালে গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পরে। সাটুরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পেতে ভিন্নমুখী কৌশল অবলম্বন করেন রোগীরা। তবুও বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে তাদের। সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ সকালে ৮টায় টিকেট কাউন্টার না খোলায় তাদের এই বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। এদিকে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন উর রশিদ বলেন,সকালে রোগী না আসায় টিকেট কাউন্টার ৯টায় খোলা হয়।

সোমবার সকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টারের সামনে স্যান্ডেল ও বাজারের ব্যাগ লাইন ধরে রাখা রয়েছে। আর রোগীরা অন্য জায়গায় বসে আছেন। আপনারা লাইনে না দাঁড়িয়ে এখানে কেন প্রশ্ন করলে উত্তরে তারা জানায়, কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায়? সেই ৭টা থেকে এখানে দাড়িয়ে আছি। কেমন হাসপাতাল একটি ফ্যানও নেই। ভ্যাপসা গরমে অস্থির হয়ে গেছি। কখন যে টিকিট কাটুম আর ডাক্তার দেখামু জানি না। এ অভিযোগ রোগীদের।

এদিকে টিকিট কাউন্টান ম্যান কাউন্টারে আসলে সামনে স্যান্ডেল রাখা রোগীদের মধ্যে চলে সেন্ডেল নেওয়ার প্রতিযোগীতা। হুড়াহুড়ি করতে গিয়ে অনেকের পায়ের সেন্ডেলও হারিয়ে যায় এবং কার সেন্ডেল কার পায়ে যায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে চলে ঝগড়া। ডায়াবেটিস রোগী জবেদা (৫৫) জানান, সকাল ৮টায় এসে দাঁড়িয়ে আছি। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। তাই লাইনে তার পায়ের স্যান্ডেল খুলে সিরিয়াল রেখেছি। ৯টারও টিকিট না পাওয়ায়  ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি সকাল ৮টা থেকে টিকিট কাউন্টার চালু রাখার আহবান জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। হাজীপুর থেকে শাহানাজ বেগম নামে এক ডায়াবেটিস রোগী এসেছেন চিকিৎসা নিতে। তিনি বলেন, টিকেট কাটার জন্য সকাল ৭ টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সাড়ে আটটা বাজলেও কাউন্টার এখনো খুলেনি। ভ্যাপসা গরমে অস্থির হয়ে পরেছি।

টিকিট কাউন্টারের উপর কোন ফ্যান না থাকায় আমার মতো অনেকে জুতা রেখে সিরিয়াল দিয়ে বসে আছে। বেলা ৯ টায় কাউন্টারে লোক এসে টিকেট কাটা শুরু করার আগেই নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। আমি এখনো টিকেট কাটতে পারিনি। কখন ডাক্তার দেখাব আর কখন বাড়ি যাব। টিকেট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মামুন বলেন, প্রিন্টারে কালি না থাকায় টিকিট দিতে দেরি হচ্ছে। প্রিন্টারের কালি ভরব তার পর টিকিট দেওয়া হবে।

এবিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন উর রশিদ বলেন,সকালে রোগী না আসায় টিকেট কাউন্টার ৯টায় খোলা হয়। এতে রোগীদের কোন ভোগান্তি হয় না বলে জানান তিনি। পায়ে সেন্ডেল খুলে সিরিয়াল রাখে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা রোগীদের বিষয়।

খবরটি শেয়ার করুন....
© All rights reserved  2022 DesherGarjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar